কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারী বদলির জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ছুরিকাঘাতে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কার্যালয়ে ছুরি মেরে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার বিকালে এ ঘটনার সময় সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও বর্তমানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে কর্মরত ফজলুর রহমানও আত্মহননের চেষ্টা চালান। তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাহিনুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে ছুরিকাঘাত করা হয়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী ইমতিয়ার সুলতান কুষ্টিয়া পলিকেটনিক ইনস্টিটিউটের খণ্ডকালীন শিক্ষক। এই দম্পতি কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়ায় থাকতেন। রুনার বাবার বাড়ি ভেড়ামারা উপজেলায়।
আর আহত ফজলুর রহমান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের শান্তিডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা।
শিক্ষক ও কর্মচারীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা একজন শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, আজকে বিভাগের ইফতার মাহফিল ছিল। বিকালে পরীক্ষা হয়েছে। আমরা ইফতারের জন্য কক্ষ গোছগাছ করি। ম্যাম, তার কক্ষেই ছিলেন। তখন হঠাৎ করেই আমার এক বন্ধু বলে, ম্যামের কক্ষ থেকে কিসের যেন আওয়াজ আসছে। ‘বাঁচাও বাঁচাও’ এরকম আওয়াজ আসছে।
দরজা সঙ্গে সঙ্গে ভাঙা হইছে। তখন দেখলাম, ম্যাম একদিকে পড়ে আছে। আর যে খুন করতে আসছে সে নিজেই নিজের গলা কাটতাছে।
ওই শিক্ষার্থী বলেন, পরে পুলিশ, প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা আসেন। শিক্ষিকা ও কর্মচারীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে আনার পর শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
শিক্ষার্থী ও ফজলুর রহমানের পরিবারের লোকজন জানান, ফজলুর আগে সমাজকল্যাণ বিভাগের কর্মচারী ছিলেন। ‘আচরণগত কারণে’ এক মাস আগে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। এটা নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন।
হাসপাতালে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক সাংবাদিকদের বলেন, ফজলুকে কয়েকদিন আগে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়েছে। ম্যাডাম সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান। বদলির সময় থেকে ফজলুর মনে হয়ত একটু কষ্ট ছিল। এটাকে কেন্দ্র করে আজকে হঠাৎ করে কক্ষে এসে শিক্ষিকাকে একা পেয়ে ছুরিকাঘাত করে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নিয়ামতুল্লাহ মুনিম রাতে বলেন, ফজলুর রহমান দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক কর্মচারী। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, ম্যাডামের সঙ্গে তার পেমেন্টসহ কিছু বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার পরিপ্রেক্ষিতেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি।
আহত কর্মচারী ফজলুর মামাত ভাই সজল সাংবাদিকদের বলেন, জটিলতার কারণে ফজলুর নয় মাস ধরে বেতন পাচ্ছিল না। পরিবার নিয়ে কার কষ্টে দিন কাটছিল। এই অবস্থার মধ্যে তাকে আবার অন্য বিভাগে বদলি করা হয়। এ থেকে কিছু হতে পারে বলে মনে হচ্ছে।
এদিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক বলেন, শিক্ষিকাকে আমরা মৃত অবস্থায় পেয়েছি। তারপরও ইসিজি করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছুরিকাঘাত ও রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম বলেন, আহত ব্যক্তির গলার শ্বাসনালী কেটে গেছে। আরও কয়েক জায়গায় ক্ষত আছে। তিনি সংকটাপন্ন, তার চিকিৎসা চলছে।
এমটিআই

আপনার মতামত লিখুন :