ঢাকা : ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মারা গেছেন-এমন দাবি করে সংবাদ প্রকাশ করেছে ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ। একই হামলায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ও নেতানিয়াহুর ভাই ইতামার বেনগিভর আহত হয়েছেন বলেও জানায় সংবাদমাধ্যমটি।
তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে মূলত একটি এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টের উল্লেখ করা হয়েছে, যা মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের একাউন্ট থেকে করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ওই পোস্টে বলা হয়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নেতানিয়াহুর সরকারি বাসভবনে আঘাত হানার পর ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। সেই সময় বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন ইতামার বেনগিভর, যিনি হামলায় আহত হয়েছেন বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়। তবে যে অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি করা হয়েছে, সেটি সত্যিই স্কট রিটারের কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
ইরানি প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক দিন ধরে নেতানিয়াহুর কোনো নতুন ভিডিও বার্তা প্রকাশিত হয়নি। জেরুজালেমে তাঁর বাসভবনের নিরাপত্তা অস্বাভাবিকভাবে জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নির্ধারিত ইসরায়েল সফর স্থগিত হওয়ার ঘটনা নেতানিয়াহুর মৃত্যুর শঙ্কাকে জোরালো করেছে।
মেহের নিউজ বলছে, তিন দিন পার হয়ে গেছে নেতানিয়াহু তার ব্যক্তিগত চ্যানেলে শেষ ভিডিও পোস্ট করেছেন। এছাড়া প্রায় চার দিন পার হয়েছে তার শেষ ছবি প্রকাশিত হয়েছে। এরপর থেকে তার নামে কিছু বিবৃতি এসেছে, তা কেবল লিখিত বা টেক্সট আকারে ছিল। এর আগে সাধারণত তার চ্যানেল থেকে প্রতিদিন নিয়ম করে অন্তত একটি এবং কখনও কখনও তিনটি পর্যন্ত ভিডিও প্রকাশ করা হতো। গত তিন দিনে একটি ভিডিও-ও প্রকাশ না পাওয়ায় এই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সরাসরি সংঘাতের মধ্যে এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে দেওয়া এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধেরই অংশ। অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে নেতানিয়াহুর ফোনালাপের একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হলেও সেখানে কথোপকথনের তারিখ উল্লেখ না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা আরও বেড়েছে।
এ বিষয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দপ্তরের নথি অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নামে সর্বশেষ বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছিল গত ৭ মার্চ। সেদিন তিনি ইসরাইলের বিরশেবা এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহতদের দেখতে গিয়েছিলেন।
এমটিআই

আপনার মতামত লিখুন :