ঢাকা : জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও ‘ইনকিলাব মঞ্চের’ মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই আসামিকে ভারতের বনগাঁ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।
রোববার (৮ মার্চ) ভোরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওসমান হাদিকে হত্যার পর দুই আসামি ভারতে পালিয়ে আসে। মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে এবং দেশটির বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরার পর বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে শেষ পর্যন্ত বনগাঁয় আসে।
এসটিএফ আরও জানায়, গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে খবর ছিল, দুই বাংলাদেশি তাদের দেশে চাঁদাবাজি, হত্যাসহ গুরুতর অপরাধ করে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে। তারা সুযোগ পেলে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার গভীররাতে বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে মামলা করা হয়েছে জানিয়ে এসটিএফ বলছে, আজ আদালতে হাজির করার পর তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে এসে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তার মৃত্যু হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলাকারীদের একজন হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদকে শনাক্ত করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার তার গ্রেপ্তারে তথ্য দেওয়ায় ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
এর আগে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ফয়সাল করিম মাসুদ, তার প্রতিষ্ঠান অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড এবং পরিবারের সদস্যদের ৫৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হামলার পেছনে কোনো আর্থিক যোগসাজশ ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা এবং অর্থ স্থানান্তর বা গোপন করার সম্ভাবনা ঠেকাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, হাদী হত্যা মামলায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
এমটিআই

আপনার মতামত লিখুন :