ঢাকা রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬,
জামায়াতের তাহের

খলিলুর ও রিজওয়ানা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জড়িত’ ছিলেন

বর্তমান সংবাদ | নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্চ ৫, ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম

খলিলুর ও রিজওয়ানা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জড়িত’ ছিলেন

ঢাকা : বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে’ ভূমিকা রেখেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদের বিরোধী দলের উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

অন্তর্বর্তী সরকারের আরেক সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধেও তিনি একই অভিযোগ তুলেছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতা তাহের বলেন, “এটা স্পষ্ট যে খলিলুর রহমান ছিলেন লন্ডন ষড়যন্ত্রের প্রধান হোতা। সেখান থেকে সরকারকে মোটিভেট করে, ষড়যন্ত্র করে বর্তমান যারা ক্ষমতায় আছেন, তাদেরকে সুবিধা দেওয়ার জন্য উনি অব্যাহতভাবে কাজ করেছিলেন। তার সেই কাজের পুরস্কার হিসেবেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই রিওয়ার্ডটা পেয়েছেন।

গেল ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। এই সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুরকে দায়িত্ব দেওয়ায় অনেকে বিস্মিত হয়েছেন।

সংসদ নির্বাচনের ৫৩টি আসনে ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে জামায়াত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানিয়েছেন দলটির নায়েবে আমির।

নির্বাচনের আগেও কয়েকজন উপদেষ্টার বিষয়ে অভিযোগ আনার বিষয়টি তুলে ধরেন আব্দুল্লাহ তাহের।

তার দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের একটি নীতিগত কথা ছিল যে অন্তর্বর্তী সরকারে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা কোনো দলীয় সরকারে কোনো ধরনের অংশগ্রহণ করবেন না। কোনো মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করবেন না। কিন্তু সরকারের প্রথম দিনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন খলিলুর রহমান। এই দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি তার আগের শপথের পরিপন্থি কাজ করেছেন।

জামায়াতের এই নেতার অভিযোগ, বিএনপির সঙ্গে খলিলুর রহমানের বা খলিলুর রহমানের সঙ্গে বিএনপির এমন কোনো ‘অঙ্গীকার ছিল যে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারে থেকে বিএনপিকে সহায়তা করবে নির্বাচনে, আর বিএনপি সরকার গঠন করলে তাকে মন্ত্রী করবে’। এতে তাদের অব্স্থান স্পষ্ট হয় বলে তিনি মনে করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়ে বিরোধী দলের উপনেতা তাহের বলেন, “সম্প্রতি তিনি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছেন, ‘যারা নারীদের উপযুক্ত অধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি, তারা বিরোধী দলে থাকলেও আমরা তাদের মূলধারা বা প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে দিইনি।’

তাহলে বোঝা যায়, আমরা, যে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ কথা আসছিল, বা আসছে, সেটাকেই উনি নিজেই স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন।

আব্দুল্লাহ তাহের বলেন, “আমরা এখন এটাকে জানতে চাই ওনার কাছে, বা তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এবং আজকের সরকারের কাছে, যে তারা তাদের যোগসাজশে কী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে মূলধারা বা প্রধান দল হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তারা বাধাগ্রস্ত করেছে।

এবং আমরা এটাও জানতে চাই সাবেক উপদেষ্টার কাছে যে এই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ওনার সাথে আর কারা কারা জড়িত ছিলেন। পুরো সরকার ছিল, নাকি সরকারের একটি শক্তিশালী অংশ ছিল, যারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে এবং তাদের ডিজাইন অনুসারে সেখানে ডিসি, এসপি, টিএনও (ইউএনও), ওসি, প্রিসাইডিং অফিসার ইত্যাদি নিয়োগ করে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে তারা সেই, তাদেরই কাঙ্ক্ষিত যে সংখ্যা সেই সংখ্যায় একটি দলকে জিতানোর জন্য তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

জাতির কাছে তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে তিনি বলেন, এই সরকারের কাছে দাবি জানাবো রিজওয়ানা হাসানকে তারা কীভাবে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনবেন এবং আওতায় এনে তার কাছ থেকে পরিষ্কার, যে পরিস্থিতি তিনি তৈরি করেছিলেন তা সম্পর্কে ওনারা জানবেন।

আব্দুল্লাহ তাহের বলেন, খলিলুর রহমান ও রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা উচিত। তারা জাতির সঙ্গে ‘গাদ্দারি, দালালি ও বিদ্রোহ’ করেছেন।

দীর্ঘদিন সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়া এবং এ নিয়ে জাতির যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, সে কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এতোবড় আকাঙ্ক্ষা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য, এটা ভণ্ডুল করে দিয়েছে এই মীর জাফররা। সুতরাং এই মীর জাফরদেরকে, খলিলুর রহমানকে, আমি দাবি করবো, সরকার যদি স্বচ্ছতা কিছুটা হলেও ...। খলিলুর রহমান ডিফেন্স অ্যাডভাইজার ছিলেন, নিরাপত্তার অ্যাডভাইজার ছিল, তো তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বের করে দেওয়া উচিত এবং তাকেও জিজ্ঞাসাবাদে এনে ষড়যন্ত্র কী হয়েছে সেটা বের করা উচিত।

ডেপুটি স্পিকার পদে নাম প্রস্তাব প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা তাহের বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে সংবিধানের আলোকে লিখিত প্রস্তাব পাওয়া গেলে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হলে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করে দেখব।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে ডা. তাহের বলেন, “গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকটি শিশু ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এছাড়া সারাদেশে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

উদ্বেগজনক বিষয় হলো-ন্যায়বিচার পাওয়া তো দূরের কথা, এসব ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে থানা মামলা নিতেও গড়িমসি করছে।

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে তিনি বলেন, “তাদের সাথে আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, ব্যবসায়-বাণিজ্য বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে এবং তাদের এআই সেক্টরে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছি। আমরা ইসরাইল-ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে তাদের বলেছি যে, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। কূটনৈতিক চ্যানেলে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সব সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়অতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শিশির মো. মনির।

এমটিআই

বর্তমান সংবাদ

Link copied!